ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত

চলমান সংঘাতের জেরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে সামরিক আগ্রাসন, যা বিশ্ব বিবেককে চরমভাবে নাড়া দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠার নানাবিধ উদ্যোগের মাঝেই প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে বেসামরিক মৃত্যুর মিছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে বিদ্যালয় জীবনের আনন্দ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হচ্ছে অবুঝ শিশুরা।

গত রোববার ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাত বছর বয়সী ওয়াফা আকিলা এবং তার বাবা একটি গাড়িতে করে স্কুলসামগ্রী কিনে বাড়ি ফেরার পথে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। নতুন ক্লাসে যাওয়ার কদিন আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্বজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর দেইর এল-বালাহ এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়স্থল সাকিনা স্কুলে চালানো অপর এক আর্টিলারি হামলায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদি ঘালিয়া নিহত হয়।

ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যখন বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের শিশুরা নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন গাজার শিশুদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আগের হামলায় আহত হওয়া আরও দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৪ হাজার ৫১১ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৬৫৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২২ জন আহত হয়েছেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগের মধ্যেও অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে মানবিক বিপর্যয় দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

০%
০%
০%
০%