কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সারের দাবিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ক্ষুব্ধ কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এবং ডিলারের গোডাউন ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুটের ঘটনা ঘটে। সোমবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া সংলগ্ন মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ নামক ডিলার পয়েন্টে এই বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়। এর আগে একই দিন পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার তুরা রোডে অবস্থিত অনুপম ট্রেডার্স নামের আরেকটি ডিলার পয়েন্টের গোডাউনের শাটার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, বন্দবেড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ থেকে সার সংগ্রহের জন্য গভীর রাত থেকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন কৃষকরা। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও নির্ধারিত সময়ে ডিলারের দেখা না পাওয়ায় এবং চারজন কৃষক হিটস্ট্রোক করায় কৃষকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। ডিলার উপস্থিত না থাকায় শেষ পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা গোডাউনের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং শতাধিক সারের বস্তা লুট করে নিয়ে যায়।
সার বিতরণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয় এবং কৃষকদের তীব্র তোপের মুখে পড়েন মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার মতিয়ার রহমান। এ সময় ডিলার পালানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে রৌমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওছার আলী এবং বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পুনরায় সার বিতরণ শুরু করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ডিলার মো. মতিয়ার রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণের কথা থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য তিনি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন এবং এই সুযোগেই কৃষকরা গোডাউন ভেঙে সার লুট করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া জানিয়েছেন যে উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং গুজব রোধে আগামীকাল থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। রৌমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হাসান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।