ফুলজোড় নদীর বুকে খাঁচায় মাছ চাষ বদলে দিয়েছে রায়গঞ্জের যুবকদের ভাগ্য

সিরিজের পর সিরিজ বাঁশ, ড্রাম ও জালের তৈরি খাঁচায় ছেয়ে গেছে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় নদী। একসময় কৃষিকাজ বা দিনমজুরিতে জীবিকা নির্বাহ করা এই এলাকার বহু বেকার যুবক এখন নদীর পানিতে খাঁচায় মাছ চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

ভূঁইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাক জুড়েই বর্তমানে এই মাছ চাষের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। বিগত পাঁচ বছরে এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৯০ জন উদ্যোক্তা, যাদের প্রায় এক হাজার ২০০টি খাঁচায় চলছে বাণিজ্যিক মাছ উৎপাদন এবং এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে চার শতাধিক পরিবার।

বাঁশ, ড্রাম ও জাল দিয়ে তৈরি একেকটি খাঁচা তৈরিতে আকারভেদে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং মূলত তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়ে নিয়মিত খাবার ও ওষুধ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাঁচ মাসের মধ্যেই তা বাজারজাত করা হয়। উপজেলার চাষি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও লোকমান হোসেনের মতো উদ্যোক্তারা নদীর পানিতে সফলভাবে এই চাষ করলেও, পানির গুণগত মান নষ্ট হলে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে বলে জানিয়েছেন।

খাঁচায় মাছ চাষের এই সফল যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০১১ সালে স্থানীয় কিছু শ্রমজীবী মানুষের হাত ধরে, যা পরবর্তীতে অন্যদের অনুপ্রাণিত করে রায়গঞ্জ উপজেলার একটি অন্যতম লাভজনক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে উপজেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আরও সহায়তার আওতায় আনার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা, মানসম্মত পোনা সরবরাহ, সঠিক খাবার ব্যবস্থাপনা এবং নদীদূষণ রোধ নিশ্চিত করা গেলে এই খাতের ঝুঁকি বহুগুণ কমে যাবে। স্থানীয় বেকার যুবকদের এই স্বাবলম্বী হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

০%
০%
০%
০%