গ্যাস সংকটে বন্ধ তিন শতাধিক কারখানা, রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধস

দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সারা দেশে তিন শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ায় দেশের রপ্তানি খাতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিকেএমইএ। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিকেএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাতেম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উৎপাদন সচল রাখতে না পারায় ইউরোপের ক্রেতারা তাদের রপ্তানি আদেশগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছেন। নতুন করে রপ্তানি আদেশ পাওয়া নিয়েও ব্যবসায়ী মহলে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ১০ আগস্ট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমানে গ্যাস সংকটের মাত্রা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে, যা শিল্প মালিকদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে।

বর্তমান সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ছয়টি জরুরি দাবি উত্থাপন করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ প্রদান এবং এই সময়ে বিল বকেয়া থাকলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা। এছাড়া, সংকট মোকাবিলায় সরকারের অবস্থান নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানোর পাশাপাশি গণপরিবহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা কীভাবে সচল রাখা সম্ভব, সে বিষয়ে সরকারকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া চলমান আর্থিক সংকট বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোর প্রতি ঋণের কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীমসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

০%
০%
০%
০%