পেন্টাগনে তথ্য ফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অর্ধশত কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা সম্পন্ন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার হ্রাস পাওয়া সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় পেন্টাগনের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তথ্য ফাঁসের উৎস সন্ধানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ডজন ডজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে পলিগ্রাফ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে এর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আগস্ট মাসে জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মচারীকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মের শুরুর দিকে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত গোপন তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গত জুলাই মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো অস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুদ রয়েছে। তবে পেন্টাগনের তদন্তকারীরা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন যে, তারা গণমাধ্যমের কাছে এই সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন কি না।

এই তদন্তের উদ্দেশ্য কেবল তথ্য ফাঁসকারীদের চিহ্নিত করা নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন কেউ রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা প্রকাশ করতে সাহস না পায়, সেই বার্তা দেওয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেননি। জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কর্মীর বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে এই কঠোর নজরদারি মার্কিন সামরিক প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সরাসরি এই পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ এখন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জটিল ও সময়সাপেক্ষ উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে এই অস্ত্রের ঘাটতি মোকাবিলা করা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪০%
৪০%
২০%
০%