শরীয়তপুরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের পৃথক মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শনিবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাশার ইউনিয়নের একটি গ্রামে যুবলীগের মিছিল থেকে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে তুলাশার ইউনিয়নের একটি গ্রামের সড়কে যুবলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা মিছিল করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ইকবাল হোসেন ওরফে রতন। মিছিল শেষে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
মিছিলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া ছয়জনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ফারুক মাতবর, ওমর ফারুক, রাকিবুল সরদার, আসিফ সরদার, বিল্লাল সরদার ও সুজন দেওয়ান। পুলিশ জানিয়েছে, তারা যুবলীগের কর্মী।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পরে ছয়জনকে আটক করা হয়। তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রোববার দুপুরে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের একটি মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে। মিছিলে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দলীয় পতাকাও ছিল। পরে মিছিলটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান সামনে থেকে স্লোগান দেন। অন্য নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরাও তাঁর সঙ্গে স্লোগানে অংশ নেন।
ওসি শাহ আলম বলেন, “আজকের মিছিলের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। ভিডিওগুলো সংগ্রহ করে মিছিলকারীদের শনাক্ত করা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।