চট্টগ্রামের খুলশী থানায় একটি নামফলকবিহীন আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ক্যাসিনো-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন নিশ্চিত হয়েছে যে আটক ব্যক্তিরা সবাই অনলাইন প্রতারণা বা স্ক্যামিংয়ে অত্যন্ত দক্ষ।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানিয়েছেন, আটককৃতদের কাছ থেকে প্রায় ৭০টি ল্যাপটপ ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এই ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ করলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ মাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
বাংলাদেশ সাইবার এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী রিদুয়ান হৃদয় উল্লেখ করেছেন, অনলাইন স্ক্যামিংয়ের মাধ্যমে সাধারণত অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হলেও এই চক্রটি ঠিক কোন কৌশলে কাজ করত তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাদের মূল লক্ষ্য দেশি নাকি বিদেশি নাগরিক ছিলেন এবং প্রতারণার অর্থ কোথায় জমা হতো বা কীভাবে স্থানান্তরিত হতো, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই ভবনটি কারা ভাড়া নিয়েছিল এবং চুক্তি কার সঙ্গে হয়েছিল, তা এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে অভিযানের আগের কয়েক সপ্তাহে ভবনটিতে বিদেশিদের চলাচল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, অথচ ভেতরে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, ভিসার ধরন এবং তারা কোনো বৈধ উপায়ে এসে অন্য কোনো অপরাধে জড়িয়েছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় কোনো নেটওয়ার্ক বা মধ্যস্থতাকারীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দেশীয় চক্রের সন্ধানও মিলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।