যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংস কলেজ লন্ডন ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র আন্দোলনের জেরে গত বছর বরখাস্ত করা এক মিশরীয় শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। ২২ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষার্থী উসামা ঘানেম দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রবল ছাত্র সমালোচনার মুখে অবশেষে তাঁর স্নাতক ডিগ্রির শেষ বর্ষ সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলন দমনের সাম্প্রতিক প্রবণতার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা এক নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত মে মাসের এক শৃঙ্খলাভঙ্গের চিঠিতে কিংস কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘানেমের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন, অসদাচরণ এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ এনেছিল। এর ফলে তাঁর ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল এবং তাঁকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মিশরে রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে আগে থেকেই কারাবাসের শিকার হওয়া ঘানেম নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকির মুখে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন।
উসামা ঘানেমের এই প্রত্যাবর্তনকে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকার রক্ষা সংগঠন কেজ একটি বড় বিজয় বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনের মতে, এই রায় কেবল একজন শিক্ষার্থীর জয় নয়, বরং লন্ডনজুড়ে ও ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানো এবং প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখা সব শিক্ষার্থীর নৈতিক জয়। এর আগে অক্টোবর ২০২৩ থেকে নভেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কমপক্ষে ২৬ জন শিক্ষার্থী ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদের কারণে শাস্তিমূলক তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলন দমনের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই এই দমনপীড়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করছে। যদিও কিংস কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবরই রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, ঘানেমের বরখাস্তের মূল কারণগুলো বহাল রেখেই শর্ত পূ সাপেক্ষে তাঁর পুন.ভর্তি সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবসময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে বলে দাবি করলেও এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের ওপর চলা প্রশাসনিক চাপের বিরুদ্ধে এক তাৎপর্যপূর্ণ আইনি নজির স্থাপন করল।