যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বা ব্রিটেনের ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে অভিহিত করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা ইসরায়েলের অন্যতম দীর্ঘকালীন ইউরোপীয় মিত্র দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ইসরায়েল-বিরোধী সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহু এই তীর্যক মন্তব্য করেন।
পডকাস্টের এক পর্যায়ে মার্কিন রাজনীতিক জে ডি ভ্যান্সের একটি পুরোনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু দাবি করেন, অনেকেই মনে করছেন ব্রিটেনই হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান যেন এমন কোনো রাষ্ট্রে পরিণত না হতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই ইসরায়েল কাজ করে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে এবং খোদ যুক্তরাজ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রগতিশীল ইহুদি আন্দোলনের নেতারা নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদি ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তখন এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাষা চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের চিফ অব স্টাফ গ্যাভিন বারওয়েল একে ‘স্পষ্ট ইসলামবিদ্বেষ’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যে দাবি করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও, ২০২৪ সালে ব্রিটিশ লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে লন্ডন ও তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করা এবং কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার উগ্রপন্থি সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন নিম্নবিন্দুর অবতারণা করেছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক রদওয়ান আবুহার্ব মনে করেন, এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য মূলত নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত জোট সরকারকে টিকিয়ে রাখতেই তিনি ব্রিটেনের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে এ জাতীয় বাগাড়ম্বরের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।