কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনে চার মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ওই দুই এলাকা থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন এই জনস্বার্থমূলক রিটটি দায়ের করেছিলেন।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বালু উত্তোলনের জন্য ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনের শর্ত ও পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্ধারিত এলাকার বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
পরিবেশ আইন ও শর্ত অমান্য করার দায়ে এর আগে গত ২১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু জরিমানার পরও তা তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় দ্বীপের স্থিতিশীলতা ও পরিবেশ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
হাইকোর্টের এই আদেশের কপি গত ৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।