জলবায়ু সংকটে গত বছর বিশ্বজুড়ে ব্যাহত হয়েছে প্রতি দশজনে একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক অভিঘাত আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ওপর। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, গত বছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ জনের শিক্ষা কার্যক্রম জলবায়ু সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ১০৬টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত এই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী ১৭ কোটি ১০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে, যেখানে কন্যাশিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

‘লার্নিং ইন্টারাপ্টেড: গ্লোবাল স্ন্যাপশট অফ ক্লাইমেট-রিলেটেড স্কুল ডিসরাপশনস ইন ২০২৫’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ঝড়, বন্যা, দাবদাহ, খরা ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়াকে শিক্ষার প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে স্কুল বন্ধ থাকা, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি, পাঠদানের সময় হ্রাস, উপস্থিতি কমে যাওয়া এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল উল্লেখ করেছেন যে, জলবায়ু সংকট কেবল ক্লাসই ব্যাহত করে না, বরং এটি বিদ্যালয় ধ্বংস করে, পরিবারগুলোকে বাস্তুচ্যুত করে এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষাবঞ্চিত করে।

ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বসবাস করে, যেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা জলবায়ু জরুরি অবস্থার মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সম্পদের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে কন্যাশিশুদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ও নেতিবাচক প্রভাবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নিরাপত্তাহীনতা, অনিরাপদ শিক্ষাবিকাশ পরিবেশ এবং বাল্যবিয়ে এই ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে বিদ্যালয় পুনরায় চালু হলেও তাদের পক্ষে ক্লাসে ফিরে আসা দুরূহ হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জলবায়ুজনিত স্কুল বন্ধের প্রধান কারণ ছিল শক্তিশালী ঝড়, যা বিশ্বব্যাপী ১০ কোটি ৯০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করেছে। এর পাশাপাশি বন্যায় অন্তত ৭ কোটি এবং তাপপ্রবাহে প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আয় থেকে কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। ফলশ্রুতিতে, পরিবেশগত ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশ্বনেতৃত্ব এবং সরকারগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

০%
০%
০%
০%