নাইটিন সেপ্টেম্বর বা নাইন-ইলেভেন হামলার পঁচিশ বছর পূর্তির প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ অভূতপূর্ব এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি সম্প্রতি একাত্তরটি গোপন প্রেসিডেন্সিয়াল ডেইলি ব্রিফ বা রাষ্ট্রপতির দৈনিক প্রজ্ঞাপন অবমুক্ত করেছে, যা বিশ্ব রাজনীতি ও গোয়েন্দা ইতিহাসের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই ঐতিহাসিক নথিগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্ব ওামামা বিন লাদেন এবং আল-কায়েদার ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে কীভাবে অবগত ছিলেন।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই নথিপত্র প্রকাশকে একটি ব্যতিক্রমী স্বচ্ছতার কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মার্কিন গোয়েন্দা ইতিহাসের রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত ব্রিফগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রকাশ। প্রকাশিত এই ১০১ পৃষ্ঠার সংকলনটি শুরু হয়েছে ১৯৯৮ সালের তেইশশে ফেব্রুয়ারি এবং এর সর্বশেষ নথিটি তৈরি করা হয় ২০০১ সালের বারোই সেপ্টেম্বর অর্থাৎ নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভয়াবহ বিমান হামলার ঠিক পরের দিন। ফাইলগুলোতে বিন লাদেনের গতিবিধি, তার অর্থায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দেশের বাইরের নেটওয়ার্কগুলোকে সিআইএ কীভাবে ট্র্যাক করছিল, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ রয়েছে।
এই গোপনীয় ব্রিফগুলোতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছিল যে ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি মার্কিন ভূখণ্ডের ভেতরে ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে। একটি নথিতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল যে পূর্ব আফ্রিকার মার্কিন দূতাবাসগুলোতে বোমা হামলার পেছনে থাকা গোষ্ঠীটি বিস্ফোরকবোঝাই বিমান নিয়ে মার্কিন কোনো শহরে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া অন্যান্য নথিতে বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সদস্যদের বিমান ছিনতাইয়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং তেজস্ক্রিয় ডার্টি বোমা তৈরির জন্য উপাদান সংগ্রহের প্রচেষ্টার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও এই নথিপত্রগুলোতে হামলার মূল পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছিল সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য যোগ হয়নি, তবে এগুলো বিগত বছরগুলোতে জমতে থাকা সতর্কবার্তার একটি ধারাবাহিক প্রমাণপত্র উপস্থাপন করে। এর ভেতরে তালেবানের বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানানো, তার রাসায়নিক, জৈবিক ও রেডিওলজিক্যাল অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা এবং মার্কিন অভ্যন্তরে হামলার বারবার দেওয়া সতর্কবার্তার বিবরণ রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র সুরক্ষার স্বার্থে এই নথিপত্রগুলোর অনেক পৃষ্ঠা এখনো সম্পাদিত বা প্রচ্ছন্ন রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসের এক গভীর ও চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরে।