পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে রাজবাড়ীতে শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় স্বপ্নের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ১৯ জেলার মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো ও ব্যাপক আনন্দের জোয়ার তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকেই সুন্দর এক আগামীর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

ইতোমধ্যে একনেকের সভায় প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল এই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে। রাজবাড়ীর পাংশা থেকে শুরু করে ওপারে পাবনার সুজানগরের মধ্যে নির্মিত হতে যাওয়া এই ব্যারাজের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বহু মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

এই মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে সরেজমিন সাইট পরিদর্শনে আসছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফসল হিসেবে বাস্তবায়িত হতে চলা এই পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণকে দেশবাসী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ইচ্ছার একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ব্যারাজসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে ওপারের পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত প্রায় দুই দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজটি নির্মিত হবে। একনেকের সভায় এই প্রকল্পের জন্য সর্বমোট ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

অনুমোদিত এই প্রকল্পের কাজের পরিধি ও বিস্তৃতির মধ্যে রয়েছে নদী শাসন, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, পাকা সড়ক এবং নানাবিধ অবকাঠামো উন্নয়ন। এছাড়াও কুষ্টিয়ার হিসনা নদী, চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদী শাসনের কাজও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই ব্যারাজ নির্মাণের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯ জেলার মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন। একইসঙ্গে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশের সঙ্গে উক্ত জেলাগুলোর সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

০%
০%
০%
০%