নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চলন্ত সিএনজি থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতককে রাস্তায় ফেলে পালানোর সময় এক কিশোরী ও অটোরিকশাচালককে আটক করেছেন স্থানীয় জনতা। শুক্রবার বিকেল চারটায় উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলন্ত সিএনজি থেকে নবজাতককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. সালাউদ্দিন ওরফে আরমানের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা গোপনে আদালতে বিয়ে করেছিলেন। কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর সালাউদ্দিন ও তার পরিবার বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলে শুক্রবার দুপুরে কিশোরী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অটোরিকশায় করে হাসপাতালে আসার পথে ওই কিশোরী সন্তান প্রসব করেন এবং জরুরি বিভাগে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা সিএনজিচালক ও ওই কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন এবং অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতক ও তার মাকে শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবার এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।