ফরিদপুরে প্রশাসনের কঠোর নিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রকাশ্যে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত তিন দিন ধরে জেলার ব্যস্ততম রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের প্রতিটি পরিবহন থেকে জোরপূর্বক ৬০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের ওই মোড়ে লাঠিতে লাল পতাকা বেঁধে একদল ব্যক্তি অবস্থান নিয়ে চলন্ত বাসগুলোর গতি রোধ করছেন। সুপারভাইজারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা আদায় না করা পর্যন্ত বাসগুলো আটকে রাখা হচ্ছে, যা নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
টাকা তোলার বিষয়টি স্বীকার করে মজনু শেখ নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, ফরিদপুর মোটর শ্রমিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন-১০৫৫ এর শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের জন্য এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের চাঁদাবাজির কারণে ক্ষুব্ধ বাসচালক ও যাত্রীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এর ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ যাত্রীদের ঘাড়ে এসে চাপবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বাস মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন জানান, তিনি আগেই তাদের এই অবৈধ কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করেছিলেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও এ ধরণের ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বারবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাসড়কে এই অবৈধ চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।