পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ও ফৈলজানা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ডিকশির বিল এখন স্থানীয়ভাবে ‘পদ্মবিল’ হিসেবে ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেছে। বর্ষার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই বিলে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
এ বছর বিলে পর্যাপ্ত পানি না এলেও ১৫টি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত এই জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে পদ্ম, শাপলা ও শালুক বেড়ে উঠেছে। ফুটন্ত পদ্মের সমারোহে তৈরি হওয়া নয়নাভিরাম এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ ভিড় করছেন।
কুষ্টিয়া থেকে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষক শরিফ শাহরিয়ার জানান, বন্ধুদের মুখে এই বিলের রূপের কথা শুনে তিনি এখানে এসেছেন এবং এখানকার অপরূপ মেলবন্ধন তার চোখ জুড়িয়ে দিয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব ছাড়াও অনেক ব্লগার ও ভ্রমণপিপাসু এই পদ্মবিলে ঘুরতে আসেন।
তবে বিলের পাড়ে যাতায়াতের রাস্তার অবস্থা বেশ নাজুক হওয়ায় অনেক পর্যটককে কাদা-পানি মাড়িয়ে বিলে প্রবেশ করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের মতে, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ভ্রমণের সুব্যবস্থা করা গেলে এই অঞ্চলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা আরও ত্বরান্বিত হতো।
ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, বছরের চার মাস পানি থাকা এই বিলের মানুষ শুকনো মৌসুমে ফসল ফলান এবং বর্ষায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, সরকারের জোরালো নজরদারি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বিলাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি স্থায়ী পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।