বরিশালের উজিরপুর, বানারীপাড়া ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স-সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান মালিকরা। তিন উপজেলায় ফায়ার লাইসেন্স-সংক্রান্ত পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেবাগ্রহীতাদের বারবার কার্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের সময় ও অর্থ—দুটিই অপচয় হচ্ছে।
উজিরপুর ও বানারীপাড়াসহ এই তিন উপজেলার বিশাল এলাকার লাইসেন্স-সংক্রান্ত পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নির্ধারিত কর্মকর্তা বা পরিদর্শক অন্য দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় সেবাপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং কখনো কখনো প্রয়োজনীয় কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে কাজ মারাত্মকভাবে পিছিয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় ই-লাইসেন্স প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী গত পহেলা মে থেকে ই-ফায়ার লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা হলেও মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট থাকায় এই ডিজিটাল সেবার কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, ভবনের নিরাপত্তা ও অগনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের প্রয়োজন হলেও জনবল স্বল্পতার কারণে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, শূন্য পদে পদায়ন এবং মানচিত্রভিত্তিক জোন পুনর্বিন্যাস করে একটি নির্দিষ্ট সেবা কাঠামো চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নির্দিষ্ট সেবা কাঠামো ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের হয়রানি যেমন কমবে, তেমনি সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।