মির্জাপুরে মাদরাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক আটক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আল আমিনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর পৌরসদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভবন ভাড়া নিয়ে পাঁচ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং তিন বছর আগে আল আমিনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের ওই ছাত্র মাদরাসার আবাসিক শাখায় নাজেরা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকে শিক্ষক আল আমিন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বারবার যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানালে পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে এই নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত শুক্রবার সকালে ছাত্রের মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে বিচার দাবি করলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন এবং প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের গেট বন্ধ করে ছাত্রদের লাঠি হাতে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামান পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টার কথা জানিয়ে আল আমিনকে আর মাদরাসায় না রাখার কথা বললেও, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মাদরাসার প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় জনতা অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%