নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোসে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। মার্কিন দর্শকদের প্রত্যাশার বেলুন ফুটো করে ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের শিরোপা জিতে নিলেন জার্মানির আলেকজান্ডার জভেরেভ। রবিবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (২), ৫-৭, ৬-২ সেটে পরাজিত করে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। এই জয়ে ২০০৩ সালের পর থেকে কোনো আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড়ের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল না।
ম্যাচের শুরু থেকেই জভেরেভ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে শীর্ষ বাছাই হিসেবে খেলতে নামা এই জার্মান তারকা শেলটনের স্নায়ুর দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। দ্বিতীয় সেটের টাইব্রেকারে জভেরেভ ছিলেন প্রায় নিখুঁত। যদিও তৃতীয় সেটে শেলটন ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু চতুর্থ সেটে জভেরেভ আবারও তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে শিরোপা নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে জয়ের মুহূর্তটি যেন তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি জভেরেভ, কয়েক মুহূর্ত পর যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখন দুই হাত তুলে উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি।
চলতি বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পর নিউ ইয়র্কেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেন জভেরেভ। ২০২০ সালে অল্পের জন্য হাতছাড়া হওয়া এই ট্রফিটি এবার নিজের করে নিতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের কোচিং টিম ও পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গত ৩০ বছর ধরে কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা না পাওয়ার পর মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি বড় শিরোপা জয় তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল।
নিজের শৈশবের ডায়াবেটিস রোগ ও মায়ের অবদানের কথা বলতে গিয়ে জভেরেভ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, চার বছর বয়সে যখন তার ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তখন তার মা অসীম সাহস জুগিয়েছিলেন। মা তাকে শিখিয়েছিলেন যে, অসুস্থতা কখনো তার পরিচয় নির্ধারণ করবে না। এই লড়াইয়ের কারণেই আজ তিনি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, শিরোপা হাতছাড়া হলেও প্রতিপক্ষ বেন শেলটনের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি জভেরেভ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, শেলটন ভবিষ্যতে অবশ্যই এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতবেন। পরাজয়ের পর ২৩ বছর বয়সী আমেরিকান তারকা শেলটন কিছুটা বিষণ্ণ থাকলেও নিজের পরিবারের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।