গাজীপুর জেলায় মাদককে সমাজের সকল অপরাধের মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তা অবিলম্বে নির্মূল করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিব। তিনি বলেছেন, বর্তমান সমাজের শতকরা পঁচানব্বই ভাগ অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে মাদক এবং এর ফলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বলেন, গাজীপুরের অনেক সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলোর সমাধানে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি কেবল কথা না বলে এখন কাজের সময় বলে মন্তব্য করেন। গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জেলার পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা শ্রীপুরে এখনও পুলিশের কার্যকর ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে না।
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মেয়র মজিবুর রহমান বলেন, অতীতে বিরোধী দলে থাকলেও এখন সরকারি দলের সংসদ সদস্য হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘ কুড়ি বছর পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু সভায় বক্তৃতা করে কোনো লাভ নেই, এখন কথা কম বলে কাজ বেশি করার সময়।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আউয়ুবী তাঁর নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে সেখানে প্রতি রাতেই গরু চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি জমি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে সংঘটিত একটি খুনের ঘটনার আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এলাকার মাদকের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তবে তাঁরা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চান বলে জানান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। তিনি বলেন, জেলা ও মহানগর প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং তিনি নিজের অবস্থান থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উক্ত সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার ও জেলার পুলিশ সুপার জসীমউদ্দীনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।