সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রী সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপির পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ঐক্যের অভাবকে চিহ্নিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ন্যাংটার আবার কাপড় খোলার ভয়? আপনারা আমাদের ন্যাংটা করে দিয়েছেন। ষড়যন্ত্র করেছেন, আমাদের রাস্তায় নামিয়েছেন এবং সাতক্ষীরার চারটি আসন গুপ্ত-সুপ্তদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাই আমাদের নতুন করে কিছু হারানোর ভয় নেই; বরং সামনে আছে পুরো বিশ্ব জয় করার সুযোগ। আর সে জয় ছিনিয়ে আনতে গিয়ে যদি কোনো শুদ্ধি অভিযান চালাতে হয়, তবে তা-ই করা হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার জন্য শুকরিয়া আদায় করতে হবে। বিগত দিনে মামলা-হামলায় জর্জরিত বিএনপি এখন একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। যারা আপনাদের ধানের শীষে ভোট দিতে চায় না, তাদের স্পষ্ট ভাষায় বয়কট করুন। মনে রাখবেন, দল বাঁচলে সবাই বাঁচবে, দল না বাঁচলে কারও অস্তিত্ব থাকবে না। সুতরাং সবার আগে দলীয় স্বার্থ।
মাঠপর্যায়ের কাজ জোরদার করার তাগিদ দিয়ে আসাদুজ্জামান আরও বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় যান। ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলোর কথা বলুন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম ভাতার বার্তা পৌঁছে দিন। প্রধানমন্ত্রী যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন, তা জনসমক্ষে তুলে ধরুন। অতীতে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যয় হতো ৩৫ কোটি টাকা, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দুপুরের খাবারের বাজেট নির্ধারণ করেছেন মাত্র ১৫০ টাকা। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই দেশ ও জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি।