বগুড়া মহানগরের ঝোপগাড়ী এলাকার একটি শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক বিরোধের জেরে রাকিবুল হাসান বকুল ওরফে ন্যাংরা বকুল (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ঝোপগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শ্বশুরবাড়ির একটি ঘরের ভেতরে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার ও শাশুড়ি বুলবুলিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত রাকিবুল হাসান বকুল বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল গনির ছেলে। প্রায় ১৭ বছর আগে পারভীন আক্তারের সঙ্গে তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই বিরোধের জেরে অতীতে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবার ও মীমাংসা হলেও সম্পর্কের বরফ গলেনি। এমনকি বিষয়টি গড়ায় থানা পর্যন্তও, যেখানে উভয়পক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের এই বিরোধ চিরতরে নিষ্পত্তির জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে একটি সালিশ বৈঠক বসার কথা নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যেই বুধবার দুপুরে বকুল তার স্ত্রী পারভীনের বাড়ির সামনে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও তীব্র বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নিহত বকুলের বিরুদ্ধে এর আগে দুটি অস্ত্র মামলা, দুটি মাদক মামলা এবং একটি নারী নির্যাতন মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি স্কোয়াড দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে এসআরবি স্কোয়াড কমান্ডার নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পেছনের কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করতে নিবিড় তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর শোকে স্তব্ধ নিহতের পরিবার। নিহতের চাচা সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এর আগেও বহুবার আমার ভাতিজাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আজ তাকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।