সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানবোধ ও সচেতনতাই সম্প্রীতি সুরক্ষা করতে পারে

অজ্ঞতা এবং ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার কারণে সমাজে প্রায়ই হানাহানি ও অস্থিরতা তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী। তিনি এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদী ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষায় সবাইকে ধর্মীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করার আহ্বান জানান। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর আরডিআরএস মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি প্রসারে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এই সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী আরও বলেন, শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া কেবল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একার দায়িত্ব নয়। এর জন্য সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে এবং সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান চর্চা বাড়াতে হবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে আখ্যায়িত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, তবে দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার পরিচয় একটাই—আমরা সবাই বাংলাদেশি। একটি আদর্শ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপরও তিনি জোর দেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানবতা, সহনশীলতা, শান্তি এবং অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দেয়। মানুষের মাঝে যখন সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান ও সচেতনতা তৈরি হয়, তখন সমাজে ভুল বোঝাবুঝি, উগ্রতা ও অপব্যাখ্যার সুযোগ থাকে না। দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বিষয়ক প্রকল্পের পরামর্শক রুহি নাজের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আবদুল মালেক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান পিয়াল, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান মাহবুব এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাজেশ দে রাজু।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে মানুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর জোর দেন। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের ঘৃণা, বৈষম্য বা সহিংসতার ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তারা ন্যায়বিচার, ঐক্য, সুশাসন এবং নিরাপদ ডিজিটাল স্পেস নিশ্চিত করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। সভায় রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা, নারী উদ্যোক্তা ও উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

০%
০%
০%
০%