গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ম্যাচে ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠা এই উইকেটে বোলারদের অসহায়ত্ব নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ম্যাচ শেষে সরাসরি মন্তব্য করেছেন, এটি ক্রিকেট নয়, এটি কেবল ব্যাটিং প্রদর্শনী। তার মতে, বোলারদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতানশু কোটাক অবশ্য রোহিত শর্মা ও শুবমান গিলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন, তবে বোলারদের জন্য মাঠের পরিস্থিতি যে প্রতিকূল ছিল, তা তিনিও স্বীকার করেছেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোটাক বলেন, বোলারদের জন্য পিচে কিছুই ছিল না। তার মতে, ৩০০ থেকে ৩২০ রানের উইকেটে লড়াই করাটা ন্যায্য, কিন্তু দ্রুতগতির আউটফিল্ডের কারণে অনেক অতিরিক্ত রান যোগ হয়েছে যা বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো।
ম্যাচটিতে দুই দল মিলিয়ে পাঁচটি সেঞ্চুরি হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল ডাবল সেঞ্চুরি। উইকেটে পেস বা স্পিন কোনোটিরই সহায়তা না থাকায় বোলাররা ছিলেন সম্পূর্ণ প্রভাবহীন। অথচ দ্বিতীয় ইনিংসে শিশিরের প্রভাবও ছিল না বললেই চলে। ত্রিবান্দ্রামে প্রথম ওয়ানডেতে বল কিছুটা টার্ন করলেও গুয়াহাটির উইকেট ছিল অনেক বেশি ফ্ল্যাট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কোচ রবি রামপালও হতাশ কণ্ঠে জানান, এমন सपाট পিচে স্পিনার বা ফাস্ট বোলার কারো জন্যই কোনো সুবিধা নেই, যা বোলারদের কাজকে অসম্ভব করে তুলেছে।
নিউজিল্যান্ড সফরের পর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ভারত ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। এমন সহজ কন্ডিশনে খেলে ব্যাটাররা কোনো ভুল ধারণার শিকার হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কোটাক আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় আসন্ন বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ নিতে দল প্রস্তুত রয়েছে। তার মতে, ভালো উইকেটে খেলার অভ্যাস দলের ব্যাটিং মানোন্নয়নে সহায়তা করে, তবে ভবিষ্যতে কঠিন উইকেটের জন্যও দলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
ব্যাটিংয়ের এই বিবর্তনকে কোটাক ইতিহাসের প্রেক্ষিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে ৬০ ওভারে ১৮০ রান যেখানে জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল, আজ সেখানে ৪০০ রান করেও স্বস্তি নেই। এটি কেবল পিচের দোষ নাকি ব্যাটারদের দক্ষতার আকাশচুম্বী উন্নতি, তা নিয়ে তর্কের অবকাশ থাকলেও কোটাক মনে করেন, ক্রিকেটীয় কন্ডিশনের বিভিন্নতার সাথে মানিয়ে নেওয়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। সময়ের প্রয়োজনে কঠিন উইকেটে খেলার মানসিক প্রস্তুতিও দলের রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।