ইউএনওর হাত ধরে চার মাস পর বিদ্যালয়ের চত্বরে ফিরল সেই শিশু তুবা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক মানবিক ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সুবাদে বরিশールの উজিরপুর উপজেলার বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ৯ বছরের শিশু তুবা অবশেষে দীর্ঘ চার মাস পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে আবারও নিজের শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু তুবার বাবা অনিক সরদারকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। সেই সময় অসহায় বাবার মুখে নিজহাতে চা-রুটি তুলে খাওয়ায় অবুঝ শিশু তুবা। পরবর্তীতে এই মর্মান্তিক দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নির্যাতিত অনিক সরদারকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠায়।

বাবার আকস্মিক এই মর্মান্তিক পরিণতি এবং পারিবারিক নানা সংকটের কারণে প্রায় চার মাস ধরে বিদ্যালয়ের বারান্দাও মাড়াতে পারেনি ছোট্ট তুবা। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নিজেই বামরাইল এলাকায় তুবার বাড়িতে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে তিনি পরম স্নেহে শিশু তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজির হন। দীর্ঘবিরতির পর প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রাখলে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তুবাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিশুটির মলিন মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক।

এ বিষয়ে শিশু তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, নানা প্রতিকূলতার মাঝে তাঁর মেয়ে দীর্ঘদিন পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তুবা আবারও বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফিরতে পেরেছে। এখন তাঁদের একমাত্র চাওয়া, যেন আর কোনো বাধা ছাড়াই তাঁর মেয়ের পড়াশোনা স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত থাকে।

ঘটনার বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। তাই শিশুটির শিক্ষাজীবন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমি নিজেই তাকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছি। তিনি আরও যোগ করেন, চিকিৎসাধীন থাকা অনিক সরদার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর তাঁর কর্মসংস্থানের স্থায়ী ব্যবস্থা করবে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি তুবার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%