শরীয়তপুরে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধে ধস, ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছ বাজার এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকস্মিক ফাটল ধরে বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এক হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধস নামার ঘটনায় নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁধের বাকি অংশও যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে তাদের দোকানপাট ও মূল্যবান মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকার এই তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটারজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছিল। সেই প্রাথমিক ফাটলের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এই মর্মান্তিক ভাঙনের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছ বাজার থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ফাটল ও ধসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন এবং শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই ভাঙন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। এতে সুরেশ্বর মাছ বাজারসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বহু বসতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন জানান, বুধবার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ওই ফাটল ধরা অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এদিকে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এই প্রতিরক্ষামূলক বাঁধে এমন ধস নামার নেপথ্যে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। একইসঙ্গে পদ্মার করাল গ্রাস থেকে সুরেশ্বর মাছ বাজার ও এর আশপাশের জনবসতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

০%
০%
০%
০%