৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের অজুহাতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বাকি থাকা ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির দিন আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) নির্ধারিত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রাথমিকভাবে ৬৬৮ জনকে সুপারিশ করার কথা থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৬৫৪ জন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে এই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫৭ জনে। ইতোমধ্যে এর মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি যেকোনো নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের ফাইল রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত পৌঁছাতে হয়। এজন্য কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তাই এ বিষয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চলা আলোচনা ও বিভ্রান্তির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে—এমন আলোচনা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বর্তমান সরকার একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে এর ভিত্তিতে কারও প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না।
নিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আদালতে দণ্ডের বিষয় থাকলে তা বিধি অনুযায়ী যাচাই করা হয়। তবে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। ভেরিফিকেশন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগের কারণে যদি নিয়োগ আটকে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন বা অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের অহেতুক উত্তেজিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা থেকে সবাইকে বিরত থাকার এবং ক্যাম্পাসে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি না করার কঠোর তাগিদ দেন তিনি।