৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি সারা দেশের এই বৃহৎ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।

উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন দেশের ৬৪ জেলার ৬ হাজার ৪০০ প্রশিক্ষণার্থী, জেলা প্রশাসক এবং জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচে ৪ হাজার ৮০০ জন এবং ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচে ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে তরুণ-তরুণীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও মেধা কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ সময় তিনি যুব সমাজ ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগোপযোগী কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম তার বক্তব্যে জানান, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো দেশের তরুণ সমাজকে আধুনিক কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা। প্রশিক্ষণের মান বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ নজরদারি রাখা হবে। এছাড়া ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, কেবল প্রশিক্ষণ নিলেই চলবে না, এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষ করে যাতে দ্রুত কাজ পাওয়া যায়, সে জন্য তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও কার্যকর মেন্টরিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ১৮ জন সফল ফ্রিল্যান্সার এবং এআই প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের ছয়জন কৃতী প্রশিক্ষণার্থীকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে নিজ নিজ জেলায় সর্বোচ্চ ডলার আয়কারী বরিশাল জেলার শরীফ মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, বরগুনার ওসমান গনি, ঝালকাঠির মো. শাওন হাওলাদার, পিরোজপুরের মো. মঈনুল ইসলাম মঈন এবং পটুয়াখালীর মারুফা আমিনকে উৎসাহস্বরূপ ল্যাপটপ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

০%
০%
০%
০%