তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যে পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত এই শীর্ষ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে পাকিস্তান সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তেহরানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকরা। এর আগে ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির তেহরান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও ইরানের কর্মকর্তারা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শেহবাজ শরিফের এই সফরটি একদিনের। রাষ্ট্রীয় শোকের এই সময়ে ইরানের নেতৃত্বের কাছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তুরস্কের উদ্দেশ্যে তেহরান ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

এই শোকানুষ্ঠানে পাকিস্তানের পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া পৃথক একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি।

বিজ্ঞাপন

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিন আনা হলে সেখানে সমবেত হন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও হাজারো শোকাতুর মানুষ। বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে খামেনির চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে খামেনির জানাজা বিলম্বিত হয়েছিল। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বর্তমানে অঞ্চলটিতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পালিত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, এই শোকানুষ্ঠানে জনগণের বিশাল উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ বার্তা প্রদান করবে।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%