জেন জি প্রজন্ম নিয়ে কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন সোনু সুদ

বলিউডের বিতর্কিত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতকে ঘিরে আবারও উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সম্প্রতি ‘জেন জি’ বা বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের ‘গাটার জেনারেশন’ বা নর্দমার প্রজন্ম বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই অভিনেত্রী। কঙ্গনার এই অসংবেদনশীল মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন অভিনেতা সোনু সুদ। তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, শিল্পীদের উচ্চাসনে বসানোর পেছনে তরুণ প্রজন্মের অবদান অনস্বীকার্য, তাই তাদের প্রতি এমন অবজ্ঞা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ঘটনার সূত্রপাত কঙ্গনার একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিকে কেন্দ্র করে। যন্তর-মন্তরে চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচির রিলস দেখে কঙ্গনা তা নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, এমন নোংরা পরিবেশ তিনি আগে কখনো দেখেননি এবং এই প্রজন্মের তরুণদের ভিডিওগুলো তাকে বমি করতে বাধ্য করে। নিজের এই মন্তব্যে তিনি বর্তমান প্রজন্মকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তাদের ‘গাটার জেনারেশন’ হিসেবে অভিহিত করেন। কঙ্গনার এই আক্রমণাত্মক ভাষা বিনোদন অঙ্গনসহ সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সোনু সুদ একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কঙ্গনা যদি সত্যিই এমন মন্তব্য করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কোনো পেশার মানুষই সাধারণ মানুষকে তুচ্ছ করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন না। সোনুর মতে, সমাজ ও ভক্তদের সমর্থন ছাড়া একজন শিল্পীর কোনো অস্তিত্ব নেই। জনসাধারণকে ঈশ্বরের রূপ হিসেবে সম্বোধন করে সোনু বলেন, যে মানুষগুলো একজন শিল্পীকে তার সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব।
সোনু সুদ আরও যোগ করেন, শব্দ চয়ন ও কথা বলার ক্ষেত্রে পরিপক্বতা থাকা জরুরি। যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের অবস্থান ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। কেবল অভিনেতা নয়, যে কোনো পেশার মানুষের জন্যই সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ থাকাটা অপরিহার্য। সোনুর এই পরিশীলিত বার্তা এবং কঙ্গনার উস্কানিমূলক মন্তব্যের পার্থক্য এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কঙ্গনার এই মন্তব্যের পর থেকে নেটিজেনদের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরাও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। সৌরভ দাসসহ বহু সমালোচক এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন, নিজের আদর্শের বাইরে গেলেই কাউকে এভাবে নিচু করে দেখা শিল্পের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বিতর্কের জল যে কতদূর গড়ায়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।