AdvertisementAdvertisement

চিরনিদ্রায় বিটিভির স্বর্ণযুগের নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমান

টেলিভিশনের পর্দায় ‘এইসব দিনরাত্রি’র মতো কালজয়ী নাটকের জাদুকর, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক ও প্রখ্যাত নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমান শেষবারের মতো বিদায় নিলেন প্রিয়জনদের ভিড়ে। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টেনে ৮৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো এই কিংবদন্তি নির্মাতার মরদেহ দীর্ঘ তিন দিন হিমঘরে থাকার পর বুধবার বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো।

বিদেশের মাটিতে বসবাসরত দুই সন্তান—অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রাজিন অভি মুস্তাফিজ ও কানাডা প্রবাসী তানভীর রানা মুস্তাফিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। সন্তানেরা ফিরে আসার পরই চূড়ান্ত হয় তাঁর দাফনের আনুষ্ঠানিকতা। তাঁর স্ত্রী, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রওশন আরা মুস্তাফিজ জানান, পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সম্পন্ন হয়েছে বিদায়ের শেষ পর্ব।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বুধবার সকাল ১০টায় এই গুণী নির্মাতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। এরপর চ্যানেল আই কার্যালয়ে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফরিদুর রেজা সাগর, ম. হামিদ, হাবিবুল ইসলাম, গাজী আবদুল হাকিম ও আফসানা মিমি-সহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু উজ্জ্বল নক্ষত্র উপস্থিত থেকে তাঁকে শেষ বিদায় জানান। উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ১৯৪৩ সালের ২৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই নির্মাতা ছিলেন বিটিভির সোনালি যুগের রূপকার। ‘সময়-অসময়’, ‘পারলে না রুমকি’ ও ‘শঙ্খনীল কারাগার’-এর মতো অনবদ্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি নাট্যাঙ্গনে যে মাইলফলক তৈরি করে গেছেন, তা চিরকাল দর্শকের হৃদয়ে অমলিন থাকবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শুধুমাত্র বিটিভির মহাপরিচালক হিসেবেই নয়, বরং বাংলাভিশন ও গাজী টিভির মতো আধুনিক টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠায় তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী ভূমিকা বাংলাদেশের সম্প্রচার জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তাঁর মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গন হারালো একজন অভিভাবক ও পথপ্রদর্শককে, যার সৃজনশীলতায় আলোকিত হয়েছিল দেশের টেলিভিশন নাটকের স্বর্ণযুগ।

0%
0%
0%
0%