মিয়ানমারে নির্বাচনী বয়কটের আহ্বানে ৯ কর্মীর দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড

মিয়ানমারে সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দায়ে ৯ জন অধিকারকর্মীকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির আদালত। গত ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন বয়কটের ডাক দেওয়ায় তাদের এই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হলো। মান্দালয় শহরের দুটি পৃথক আদালতে দণ্ডিতদের মধ্যে হেতে মিয়াত আউং নামের একজন শীর্ষস্থানীয় অধিকারকর্মীসহ আটজনকে ৩৭ বছর এবং নবম জনকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মান্দালয়ভিত্তিক অ্যান্টি-জুনটা ফোর্সেস কোঅর্ডিনেশন কমিটির মুখপাত্র মে নিনের তথ্যমতে, নির্বাচনী আইন ও সন্ত্রাস দমন আইনের অধীনে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের কেন্দ্রস্থলে একটি ঝটিকা বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে তাদের আটক করা হয়। মূলত পরবর্তী নির্বাচন বর্জন, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ প্রত্যাখ্যান এবং ২০২১ সালে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতকারী সামরিক শাসনের অধীনে আটক রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছিলেন।
মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করতেই সামরিক জান্তা এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর চড়াও হয়েছে। মে নিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই অবিচারের বিরুদ্ধে আপিল করে কোনো লাভ হবে না বলে তারা মনে করেন, কারণ বর্তমান বিচার ব্যবস্থার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। দণ্ডিতরা বিশ্বাস করেন, পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা কোনো গোষ্ঠী কখনোই প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারের সামরিক সরকার গত জুলাই মাসে একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো বক্তৃতা, বিক্ষোভ বা প্রচারণাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইনে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের নির্বাচনের আগে এই আইনের আওতায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, যেখানে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ রেখে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বিজয়ী হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিরোধীদের মতে, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ বা নিরপেক্ষ ছিল না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা