ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে জেমস কোমির বিরুদ্ধে মামলা বাতিলের আবেদন আইনজীবীদের

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হিসেবে দাবি করে তার আইনজীবীরা মামলাটি খারিজের আবেদন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝিনুকের ওপর লেখা একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে কোমির বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া নথিতে কোমির আইনি প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, সরকারি কৌঁসুলিরা এই মামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন এবং অসত্য তথ্যের আশ্রয় নিয়েছেন।
মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কোমির একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, যেখানে তিনি ঝিনুকের ওপর একটি সাংকেতিক বার্তার ছবি প্রকাশ করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, সেখানে ব্যবহৃত ‘৮৬’ সংখ্যাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি ইঙ্গিত। রেস্তোরাঁর পরিভাষায় ‘৮৬’ শব্দটির অর্থ কোনো কিছু বাতিল করা বা বাদ দেওয়া হলেও, বিচার বিভাগ এটিকে সহিংসতা উসকে দেওয়ার প্ররোচনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে কোমি বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন।
কোমির আইনজীবীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকেই এই হয়রানিমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচারের আয়োজন করা হয়েছে। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রসিকিউশন এমন কিছু প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মামলা সাজিয়েছে যা আদতে কোনো অপরাধের আওতাভুক্ত নয়। অধিকারকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় বাক-স্বাধীনতা রক্ষার যে অধিকার রয়েছে, এই মামলাটি তার পরিপন্থী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কোমির ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অতীতেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সমালোচকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে, যার মধ্যে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের নাম উল্লেখযোগ্য। বোল্টন শ্রেণিবদ্ধ নথিপত্র গোপন রাখার অপরাধ স্বীকার করলেও, জেমসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরে আদালত খারিজ করে দেয়।
আইনজীবীদের দাবি, প্রসিকিউটররা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন তথ্য গোপন করেছেন যা কোমির নির্দোষিতা প্রমাণে সহায়ক হতে পারত। উদাহরণ হিসেবে তারা জন গাম্বিনোর মামলার ফাইলের উল্লেখ করেন, যেখানে ‘৮৬’ সংখ্যার কোনো অপরাধমূলক সংযোগ পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোমির দীর্ঘদিনের বিরোধ সর্বজনবিদিত; ২০১৭ সালে এফবিআইয়ের প্রধান থাকাকালীন ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেছিলেন। সেই তিক্ততার ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিচারিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা