ফটিকছড়িতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশাল পদযাত্রায় ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ১০ হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ফটিকছড়ি উত্তরের দাঁতমারা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হেঁয়াকো বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।

ফটিকছড়িকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে সংসদ সদস্য বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুশৃঙ্খল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ এবং ফটিকছড়ি গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানরা সন্ধ্যার পর কোথায় যায় এবং কী করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই অঞ্চলে তাদের কোনো স্থান হবে না। এ সময় এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নাজিরহাট থেকে ফটিকছড়ি হয়ে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে, যার মাধ্যমে রামগড়ের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া হেঁয়াকো এলাকাকে পৌরসভায় উন্নীত করা, ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি আধুনিক ফায়ার স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

র‍্যালি ও সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহীম, ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মানুষসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা অংশ নেন।

০%
০%
০%
০%