নারায়ণগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত আট দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডটি ছয় লেনে উন্নীত করা হলেও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে প্রায় পাঁচশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি এর সৌন্দর্যবর্ধনেও মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করা হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর সড়কটির বর্তমান চিত্র নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২০ সালে হাতে নেওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ৩৬৪ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ধরা হলেও পরবর্তীতে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে ৪৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ এবং যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে চাঁনমারী থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত প্রায় চারশ পঞ্চাশ মিটার অংশ সংকীর্ণ হয়ে থাকায় সেখানে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট লেগেই থাকছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড যাওয়ার পথে শহীদ রিয়া গোপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের অংশ, জালকুড়ি যুব উন্নয়ন, ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এবং মাহমুদপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে সড়কের ওপর ময়লা ফেলে বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যানে করে ময়লা এনে এসব স্থানে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে সড়কের সার্ভিস লেনটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পথচারীদের নাক চেপে এই অংশগুলো দিয়ে চলাচল করতে হলেও ময়লা ফেলার স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে জেলা প্রশাসন কিংবা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় পথচারী ও যানচালকদের অভিযোগ, কেবল বাসাবাড়ির গৃহস্থালি বর্জ্যই নয়, বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্যও এখানে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে তীব্র দুর্গন্ধের পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ভূইগড় বাজারের ক্ষুদ্র দোকানি নাইফ ইসলাম জানান, পুরো রাস্তাজুড়েই বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলার কারণে হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে। ময়লা পচে পোকা সৃষ্টি হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং বৃষ্টির দিনে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, লিংক রোডে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর প্রতিটি এলাকায় ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে যেন সেগুলো দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, তারা পুরো লিংক রোডটি পরিষ্কার রাখতে চান, যাতে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করার সময়ই মানুষের মনে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।