বাগেরহাট জেলার প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ভৈরব নদ বর্তমানে তীব্র দখল ও দূষণের কবলে পড়ে মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হয়েছে। খানজাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত এই নদটিকে কেন্দ্র করেই মূলত প্রাচীনকালে এই অঞ্চলের জনবসতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল।
নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রক্ষা এবং তীর দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ রয়েছে যে, নদীর দুই পাড় দখল করে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে গড়ে তোলা হয়েছে নানা স্থাপনা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, শহরের ডাকবাংলো ও দড়াটানা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর অভ্যন্তরেই নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ও বহুমুখী কমপ্লেক্স। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় এবং নদীর পাড়ে ময়লার স্তূপ জমে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নদী পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। অবিলম্বে এই অবৈধ দখল ও দূষণ বন্ধ করে নদীটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছে।