১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা জেলার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকেই উন্নত হবে বলে ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে মিল-কারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশের ২০টির বেশি ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন এবং মঙ্গলবার থেকেই এসব খাতে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ আবুল কালাম আরও জানান, মিল, কারখানা ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঠিক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রয়োজন, তা আগের মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধান এই আশ্বাসের ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়নের সঠিক প্রতিফলন ব্যবসায়ীরা দেখতে পেয়েছেন বলেও বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন বিটিএমএ সভাপতি।

উক্ত বৈঠকে শিল্পকারখানায় চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত নানা সমস্যা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা। ব্যবসায়ীদের এসব বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী সমস্যাগুলো নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আশ্বাস দেন।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা-র চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং পেট্রোবাংলা ও পিডিবির চেয়ারম্যানসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা এফবিসিসিআই, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিজিএমইএ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিকেএমইএ ও বিটিএমএসহ দেশের শীর্ষ প্রায় ২৪টি খাতভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

০%
০%
০%
০%