নাগোয়া এশিয়ান গেমসে আবাসন সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তিতে অ্যাথলেটরা

জাপানের আইচি প্রিফেকচারের নাগোয়া শহরে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে চরম অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, গেমসের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে নিকৃষ্ট আবাসন ব্যবস্থা। খেলোয়াড়দের থাকার জন্য তৈরি শিপিং কন্টেইনার সদৃশ অস্থায়ী কাঠের কেবিনগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র কক্ষ সংকট, যা অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জং জে-ইয়ং সোমবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত বিছানাগুলো অত্যন্ত ছোট। দুই মিটারের বেশি উচ্চতার অ্যাথলেটরা সেখানে পা ছড়িয়ে ঘুমাতেও পারছেন না। বাস্কেটবল দলের সদস্য বিয়ন জুন-হিয়োং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা গেছে কেবিনের বেসিন থেকে পানি চুইয়ে মেঝে ভিজে একাকার হয়ে আছে। এমন অস্বাস্থ্যকর ও অনুপযুক্ত পরিবেশে থাকা অ্যাথলেটদের জন্য মানসিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবাসন সংকটের ভয়াবহতা এতটাই প্রকট যে, ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এয়ারবিএনবি-র সাহায্য নিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের ক্রীড়া কর্মকর্তারা তাদের অ্যাথলেটদের এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আগে থেকেই নিজ দেশে একই ধরনের কেবিনের প্রতিরূপ তৈরি করে অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন। গেমসে অংশ নেওয়া প্রায় ২ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার জন্য এই অস্থায়ী কেবিনগুলোই এখন প্রধান আশ্রয়স্থল।

জাপানি আয়োজকরা জানিয়েছেন, জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণেই তারা উন্নত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গেমসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট অ্যাথলেট ভিলেজ তৈরি না করে তারা ক্রুজ শিপ, অস্থায়ী কাঠের কেবিন ও হোটেলের ওপর নির্ভর করছেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বারবার উদ্বেগ জানানোর পরেও আয়োজক কমিটি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আগামী শনিবার গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও ফুটবল ও বাস্কেটবলের মতো ইভেন্টগুলো এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে, যা নিয়ে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

০%
০%
০%
০%