পে স্কেল নিয়ে যত তথ্য

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬। নতুন এই বেতন কাঠামোয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা ও ভাতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়।

নতুন বেতন কাঠামোয় আগের মতোই মোট বিশটি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে এবং বিংশ গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন কুড়ি হাজার টাকা করার প্রস্তাবও বহাল রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত কাঠামোতে মূল বেতন একশ থেকে সর্বোচ্চ একশ বিয়াল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়িভাড়া ভাতার হার কিছুটা কমানো হয়েছে। ২০১৫ সালের বিদ্যমান পে-স্কেল অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের পঞ্চাশ থেকে পঁয়ষট্টি শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া পান। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে চল্লিশ থেকে ষাট শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা বা অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলার বাইরে কর্মরতদের বাড়িভাড়া ভাতার হার পঁয়ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ থেকে কমিয়ে পঁচিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাতার শতাংশ কমলেও প্রকৃত অর্থে বাড়িভাড়া ভাতার টাকার পরিমাণ আগের চেয়ে বেশি হবে।

বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোয় সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার এক রাখা হচ্ছে না। উচ্চতর গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের হার তুলনামূলক কম হবে, অর্থাৎ গ্রেড যত উঁচু এবং মূল বেতন যত বেশি হবে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার তত কমবে। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের প্রস্তাবে প্রথম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন এক লাখ ষাট হাজার টাকা করার সুপারিশ করলেও সচিব কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী তা এক লাখ ছাপান্ন হাজার টাকায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অষ্টম ও নবম গ্রেডে কমিশনের প্রস্তাবিত দশ শতাংশ বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মূল বেতনের একটি অংশ প্রথম ধাপে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। এছাড়া বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান কাঠামোতে সকল কর্মচারী ও বয়স্ক পেনশনভোগীদের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা ভাতা থাকলেও নতুন কাঠামোয় বয়সভেদে তা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকরিজীবীদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা তিন হাজার টাকা এবং পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর বয়সীদের চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ষাট থেকে সত্তর বছর বয়সী পেনশনভোগীরা পাঁচ হাজার টাকা এবং সত্তর বছরের বেশি বয়সীরা ছয় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। প্রথমবারের মতো সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ফোন ভাতা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাঁচশো টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীরা দেড়শো টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাসিক যাতায়াত ভাতা তিনশো টাকা থেকে বাড়িয়ে ছয়শো টাকা, টিফিন ভাতা দুশো টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচশো টাকা এবং ধোলাই ভাতা একশো টাকা থেকে বাড়িয়ে তিনশো টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ ভাতা কুড়ি শতাংশ থেকে কমিয়ে পনেরো শতাংশ করার প্রস্তাব করা হলেও পাহাড়ি ভাতা, হাওর, দ্বীপ ও চরভাতা এবং শিক্ষা সহায়ক ও উৎসব ভাতার পূর্বনির্ধারিত হার ও সীমা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহাল রাখা হয়েছে।

০%
০%
০%
০%