চাঁদপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ এবং মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তির কঠোর বার্তা হুইপের

চাঁদপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ আশ্রাফ উদ্দিন নিজান জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন করে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে হুইপ বলেন, মাদকসেবীদের একসঙ্গে রাখা যাবে না, তাদের আলাদা রাখতে হবে। মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদড় উল্লেখ করে তিনি এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া চাঁদপুরের ইলিশ সম্পদ রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুর ইলিশের প্রধান প্রজনন কেন্দ্র এবং সারা পৃথিবী এই জেলার ইলিশের জন্য পরিচিত, তাই ইলিশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কোস্টগার্ডের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মালামাল জব্দ করে মূল্য নির্ধারণ করা হলো কিন্তু কোনো মামলা বা কাউকে আটক করা হলো না, এটি কেন হবে? জব্দকৃত মালামালের ঘটনায় অবিলম্বে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আটকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

জেলার শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আটটি উপজেলায় মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে বলেন, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকরা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালাল চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ কঠোরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি বিদেশগামীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণের নামে অযথা হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হুইপ আরও বলেন, এটি তারেক রহমানের সরকার এবং সরকারের নীতিমালার বাইরে কেউ কিছু করতে পারবে না। সবাইকে সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা নিজেদের উপস্থিত না হয়ে প্রতিনিধি পাঠানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জেলা পর্যায়ের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় দপ্তর প্রধানদের সরাসরি উপস্থিত থেকে নিজেদের কার্যক্রম ও সমস্যাগুলো তুলে ধরা আবশ্যক।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান এবং পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

০%
০%
০%
০%