মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেকান্দার আলী হাওলাদার হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক যুগ পর তিন ভাইকে যাবজ্জীবন ও আরেক ভাইকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাহিদুর রহমান নাহিদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একই সাথে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার গফুর হাওলাদারের তিন ছেলে লিটন হাওলাদার, টিটন হাওলাদার ও বাচ্চু হাওলাদার। সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও একই এলাকার গফুর হাওলাদারের অপর ছেলে আতিয়ার হাওলাদার। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার চৌদ্দজন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন; তারা জামিনে গিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও নথি সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৪ সালের ৫ জুলাই শনিবার সন্ধ্যার দিকে রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার মৃত জোনবালি হাওলাদারের ছেলে সেকান্দার আলী হাওলাদার ও তার ভাতিজা কামরুল হাওলাদার মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাসাবাড়ি ব্রিজের নিচে পৌঁছালে লিটন, বাচ্চু ও টিটনসহ অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের মারাত্মকভাবে জখম করেন।
পরবর্তীতে তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে সেকান্দার আলীর অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৬ জুলাই ২০১৪ সেকান্দারের ভাই ইলিয়াস হাওলাদার রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সারাজুল ইসলাম। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মামলার বাদী পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি মো. এমারাত হোসেন বলেন, আদালত উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন এবং বাকিদের খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করছি।