কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা থামছেই না। উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ওলীপাড়া এলাকায় গত মঙ্গলবার সকালে ১৯ মাস বয়সি নাবিলা নামের এক শিশু পুকুরের পানিতে তলিয়ে মারা গেছে।
নিহত শিশুর চাচা আরিফ জানান, গত মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে তার ভাবি রান্নায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে শিশু নাবিলা সবার অজান্তে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে গত পাঁচ দিনে উপজেলায় চার শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর আগে গত রোববার উত্তর ধুরুং কুইল্যার পাড়ায় খোকনের দুই বছরের মেয়ে আইমন, শনিবার লেমশীখালী হাবিব হাজির পাড়ার রুবেলের দুই বছরের ছেলে জিয়াদ এবং শুক্রবার আলী আকবর ডেইল ঘাটকুল পাড়ায় চার বছরের শিশু মিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এছাড়া গত মাসের চার তারিখে বড়ঘোপ মুরালিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের তিন বছরের মেয়ে তাকওয়াও একইভাবে প্রাণ হারায়।
এভাবে প্রতিনিয়ত শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, উপজেলার প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর বা জলাশয় রয়েছে, যার সিংহভাগের চারপাশে কোনো বেড়া বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ফলে শিশুরা খেলার ছলে সহজেই পুকুরে পড়ে যায়। অভিভাবকেরা যথেষ্ট সচেতন না হলে এই অপমৃত্যু রোধ করা সম্ভব নয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ জানান, চলতি মাসের শুরু থেকেই পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। গত পাঁচ দিনে চারটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ক্যাম্পেইন করা হলেও বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছেই না।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক জানান, ইদানীং কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবুঝ শিশুরা খেলার ছলে কোথায় যায় সেদিকে অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ নজর রাখার পাশাপাশি পুকুর বা ডোবার চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।