পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বড়াল নদ থেকে কিশোর অটোভ্যান চালক সাকিবুল হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে উপজেলার দীঘুলিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ইমনের বয়স ২৫ বছর। সে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর আকন্দপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে এবং বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলার দীঘুলিয়া গ্রামে বসবাস করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে ইমন যাত্রীবেশে কিশোর সাকিবের অটোভ্যানে ওঠে। এরপর তারা উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজার এলাকার বড়াল নদের তীরে পৌঁছালে অভিযুক্ত ইমন একটি কাঠের টুকরো দিয়ে সাকিবুলের মাথায় সজোরে আঘাত করে তাকে নদে ফেলে দেয়। পরে অটোভ্যানটি নিয়ে সে পালিয়ে যায়। ওই দিন বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে নদের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখলে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ওই রাতেই নিহত সাকিবুলের পিতা হারিজ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইমন ভ্যানচালক সাকিবুলকে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে উপজেলার ধানুয়াঘাটা বাজার থেকে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।