সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে পকেট গেট না থাকায় এবং যানজটের বেড়াজালে দেরিতে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুড়ে ছাই ছয় দোকান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার শেখেরহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক সারির ছয়টি দোকান, একটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি অটোরিকশা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের অপেক্ষায় না থেকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা বালতি হাতে নিজেরা আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ পানি ছোড়েন, কেউ দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। স্থানীয়দের সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো গেলেও এক সারির ছয়টি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হলেও নানা বাধার মুখে পড়ে দেরিতে পৌঁছায়। ফায়ার স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা-মুখী লেনে সরাসরি ওঠার কোনো পকেট গেট না থাকায় গাড়িকে উল্টো পথে মহাসড়কে উঠে উপজেলা সদর পর্যন্ত যেতে হয়। সেখানে ইউটার্ন নিয়ে আবার ঢাকা-মুখী লেনে প্রবেশ করতে হয়। এরপর সীতাকুণ্ড বাসস্টেশন এলাকার যানজট এবং বড়দারোগাহাট ওজন স্কেলের পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারির কারণে আবারও বাধার মুখে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। স্বাভাবিক গতিতে এগোনোর সুযোগ না থাকায় পরে সরু গ্রামীণ সড়ক দিয়ে কয়েকটি মোড় ঘুরে শেখেরহাট বাজারে পৌঁছাতে হয়।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ফলামন মুন্নু মারমা জানান, তারা ইচ্ছে করে দেরি করেননি এবং খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। কিন্তু পথের বিভিন্ন সমস্যার কারণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

শেখেরহাটের এ অগ্নিকাণ্ড জরুরি সেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাও সামনে এনেছে। ফায়ার স্টেশন থেকে মহাসড়কে সরাসরি প্রবেশের ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি গাড়িকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাসস্টেশন ও ওজন স্কেলের যানজট যুক্ত হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এক রাতের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পণ্য, ব্যবসার পুঁজি ও আয়ের অবলম্বন নষ্ট হওয়ায় তাদের সামনে এখন নতুন করে ব্যবসা দাঁড় করানোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগের মুহূর্তে মূল্যবান প্রাণ ও সম্পদ রক্ষায় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী ফায়ার স্টেশনের সামনে মহাসড়কে দ্রুত কার্যকর পকেট গেটের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বড়দারোগাহাট ওজন স্কেল এলাকায় জরুরি সেবার গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

০%
০%
০%
০%