আইনি প্রক্রিয়ায় অবৈধ দখল হওয়া সমস্ত সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা হবে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল জেলার রূপাতলী হাউজিং এলাকা পরিদর্শনকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অবৈধভাবে দখল কিংবা বিতরণ করা সরকারি জমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে অতীত স্মৃতির রোমন্থন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রূপাতলীতে প্রথম প্রতিষ্ঠান করেছিল তাঁর বাবা এবং সেখানে তাঁদের একটি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল ছিল। সে সময় কোনো অফসোনিন না থাকলেও একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বরিশাল ফিশিং লিমিটেড কোম্পানি পরিচালিত হতো। ফ্যাসিস্ট সরকার তাঁদের ক্রয়কৃত জমিও দখল করে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং একে তাদের চরিত্র বলে উল্লেখ করেন।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও দুর্নীতির চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং তাদের সঙ্গে বিএনপির তুলনা করার কোনো মানেই হয় না। তাঁর জানা মতে, এখন পর্যন্ত বরিশালে তাঁদের দলীয় লোকজন কোনো সরকারি সম্পত্তি দখল করেনি। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের এই শ্রেণির মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং বরিশালেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন জমি যেভাবে বরাদ্দ বা বিতরণ করা হয়েছিল, সেগুলোর বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং অনিয়ম বা অবৈধতার প্রমাণ পেলে জমি পুনরুদ্ধার করে মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে আনা হবে।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুছুর রহমান, নগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন শিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

০%
০%
০%
০%