মাদ্রিদ ও রাবতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় তৈরি হয়েছে, কারণ স্পেনের কংগ্রেসে সাহরাবিদের জন্য নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি নতুন বিল পাস হয়েছে। স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় পশ্চিম সাহারায় জন্মগ্রহণকারী সাহরাবিদের জন্য স্পেনের নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি বিশেষ পথ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৬৮ বনাম ৩১ ভোটের ব্যবধানে এবং ১৪৫টি ভোটদানের বিরত থাকার মধ্য দিয়ে বিলটি নিম্নকক্ষে পাস হয়, যা এখন চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার আগে সেনেটে উত্থাপন করা হবে।
প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের আগে পশ্চিম সাহারায় জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা সাধারণ বসবাসের পূর্বশর্ত ছাড়াই বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্পেনের জাতীয়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং এর আওতায় প্রথম প্রজন্মের উত্তরসূরিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাছাড়া, স্পেনে আইনগতভাবে বসবাসকারী যোগ্য সাহরাবিদের জন্য সাধারণ ১০ বছরের পরিবর্তে মাত্র দুই বছর বসবাসের পরই নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হবে। সমর্থকরা এই ব্যবস্থাকে একটি ঐতিহাসিক অবিচার দূর করার উপায় হিসেবে দেখলেও, মরক্কো এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
স্পেন ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম সাহারার ঔপনিবেশিক শক্তি ছিল এবং তখন থেকেই এই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মরক্কো ও স্বাধীনতাকামী পলিসারিও ফ্রন্টের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ চলে আসছে। এই নতুন আইন পশ্চিম সাহারার আঞ্চলিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না এবং কোনো স্বাধীন সাহরাবি রাষ্ট্র বা সার্বভৌমত্বও স্বীকৃতি দেবে না। তবে রাবতের মূল উদ্বেগ হলো, এই আইনের ফলে স্পেনের সঙ্গে পশ্চিম সাহারার সরাসরি সংযোগ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এক নতুন ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় শেষ পর্যন্ত ৭০,০০০ থেকে ১,১০,০০০ মানুষ নাগরিকত্বের যোগ্য হয়ে উঠতে পারেন এবং স্পেনের নাগরিকত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবেও বিশেষ অধিকার লাভ করবেন। আলজেরিয়ার তিন্দউফের শরণার্থশিবিরে থাকা সাহরাবি জনগণ এবং পশ্চিম সাহারার স্থানীয় যোগ্য ব্যক্তিরা এর সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হতে পারেন। ফলে মাদ্রিদের সঙ্গে সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকা এই সংবেদনশীল বিষয়ে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক যোগসূত্রসম্পন্ন একটি বড় সম্প্রদায় তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মরক্কো।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের সরকার ২০২২ সালে মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে স্পেনের দীর্ঘদিনের পশ্চিম সাহারা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানচেসের প্রশাসন তখন মরক্কোর প্রস্তাবকেই এই বিরোধ মীমাংসার সবচেয়ে গুরুতর, বাস্তবসম্মত এবং বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিল। সেনেটে পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই নাগরিকত্ব বিলটি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণে নতুন কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।