দালালকে টাকা দিয়েও মিলছে না জমির দলিলের নকল, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা ২৪ শতক জমির দলিলের নকল তুলতে এসে গত সাত মাস ধরে নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বারান্দায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব মহসীন আলী। শুধু এই চড়াইখোলা ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যক্তিটিই নন, নীলফামারী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নকল শাখায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ বাণিজ্য ও সীমাহীন দীর্ঘসূত্রিতায় প্রতিদিন জিম্মি হয়ে পড়ছেন জেলার দূর-দূরত্ব থেকে আসা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, কার্যালয়টির চতুর্থ তলার নকল শাখায় সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। সেখানে ওত পেতে থাকা দালাল চক্রের সদস্যরা সেবাগ্রহীতাদের জমির পরিমাণ ও দাগ নম্বর জেনে চড়া হারে অর্থ দাবি করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নকল শাখার সহকারী সোনালি আক্তারের যোগসাজশে লোহার গ্রিলের ভেতর দিয়ে এসব অবৈধ আবেদন জমা নেওয়া হয়। সরকারি ফি ছাড়াও দালালদের নির্ধারিত অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ না করলে মাসের পর মাস ঘুরেও দলিলের নকল হাতে পাওয়া যায় না। ক্ষেত্রবিশেষে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া, হুমকি দেওয়া এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এই চক্রটি।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, নকল শাখার সহকারী সভাপতি মন্টু মিয়ার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পুরো সিন্ডিকেটটি পরিচালিত হয়। সদর উপজেলার চওড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমান গত আট মাস ধরে এবং ডিমলার ছাতুনামার শাকিল ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে দালালের মাধ্যমে ১৫ থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ঘুষ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত নকল দলিল হাতে পাননি। একইভাবে সাত্তার আলীসহ বহু সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দালালদের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া এই কার্যালয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কোনো সেবা পাওয়ার ন্যূনতম সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নকল শাখার নকলনবিশ ও কর্মীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, সে সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, দালাল চক্র ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন জালিয়াতির কাগজপত্র তৈরি করার বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবগতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান তিনি।

সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত এই প্রভাবশালী দালাল চক্রের অপতৎপরতা চিরতরে বন্ধ করে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%