রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা এলাকা থেকে শিরিনা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার এই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ওহিদুর রহমান অন্তরকে (৩১) আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে আশকোনার পাঁচশ পঞ্চাশ নম্বর বাড়ির একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। দক্ষিণখান থানা পুলিশ রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহত শিরিনা আক্তার চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বটতল গ্রামের রাজা মিয়ার মেয়ে। তিনি স্বামী অন্তরের সঙ্গে আশকোনার ওই বাসায় বসবাস করতেন। আটক অন্তর একই উপজেলার মাদবরহাট জমাদার গ্রামের নুর নবীর ছেলে। পুলিশ জানায়, কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শিরিনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। গত বুধবার রাতেও শিরিনা ও অন্তরের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের। নিহতের ভাই আরাফাত আহমেদ অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় শিরিনাকে দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার তার বোনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন রেখে দিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার দাবি, গ্রামের বাড়িতে থাকার সময়ও শিরিনাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করা হতো এবং ঢাকায় যাওয়ার পরও সেই বিরোধ অব্যাহত ছিল। এর আগে গত শুক্রবার অন্তরের পরিবারের লোকজন তাদের গ্রামের বাড়িতে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছিল এবং সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসেন জানান, শিরিনার গলায় ইউ আকৃতির দাগ পাওয়া গেছে, তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। লাশ উদ্ধারের সময় তার স্বামী অন্তরও বাসায় উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এদিকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।