দেশের বিচার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ও পদায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৪৪ জন জেলা জজ, ২৬ জন অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ জন যুগ্ম জেলা জজ, দুইজন সিনিয়র সিভিল জজ এবং দুইজন সিভিল জজসহ মোট ৯৯ জন বিচারককে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত পাঁচটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই রদবদলের আওতায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ১৭ জন বিচারককে দেশের বিভিন্ন জেলায় চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কয়েকজন বিচারককে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন জেলা ও দপ্তরে বদলিকৃত বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ রাহেলা পারভীনকে কিশোরগঞ্জে, ফাতেমা তুজ জোহরা মুনাকে মুন্সিগঞ্জে, নরসিংদীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তারেক আজিজকে নরসিংদীতে, জয়পুরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জান্নাতুল রাফিন সুলতানাকে জয়পুরহাটে এবং কুড়িগ্রামের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কনক বড়ুয়াকে কুড়িগ্রামে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও দিনাজপুরের যুগ্ম জেলা জজ ফাতিমা খাতুনকে দিনাজপুরে, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত সাবিনা ইয়াসমিনকে মাগুরায় এবং ময়মনসিংহের তারিকুল ইসলামকে ঝিনাইদহের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে কুষ্টিয়ার যুগ্ম জেলা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে কুষ্টিয়ায়, আসমা মাহমুদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে, তানিয়া ইসলামকে ঢাকা মহানগরে, নাসিমা খাতুনকে ময়মনসিংহে এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দাউদ হাসানকে কক্সবাজারে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের মানি লোন কোর্টের যুগ্ম জেলা জজ মো. হাসিবুল হাসানকে যশোরে এবং নড়াইলের যুগ্ম জেলা জজ শারমিন সুলতানা সুমিকে রাজবাড়ীতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় পদায়নকৃতদের মধ্যে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা, ঝিনাইদহের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মাসুদ আলীকে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব, পাবনার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. ফেরদৌস ওয়াহিদকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা এবং সোনিয়া আহমেদকে আইন ও বিচার বিভাগের ডেপুটি সলিসিটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীরকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মার্জিয়া খাতুনকে নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা জজ সত্যব্রত শিকদারকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা জজ মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধান, নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বাসুনিয়া, মো. মতিউর রহমান, শফি উদ্দিন এবং মো. সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্যরা।
আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান পদের দায়িত্বভার নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। তবে যেসব বিচারক বর্তমানে প্রশিক্ষণ কিংবা ছুটিতে রয়েছেন, তাদের প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।