বাগেরহাটের মোংলায় কাতারপ্রবাসী এনামুল ফকিরের উপার্জিত অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসী এনামুল বাদী হয়ে মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামের এক ব্যক্তির কথিত পরকীয়া সম্পর্কেরও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে অভিযুক্ত তানজিলা ও খলিল উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তানজিলা বেগমকে বিবাহ করেন এনামুল ফকির। পরবর্তীতে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তিনি কাতারে পাড়ি জমান। প্রবাসে অবস্থানকালে তিনি নিয়মিত পরিবারের ব্যয়ভার বহনের জন্য টাকা পাঠানোর পাশাপাশি স্ত্রীর জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি তানজিলার সঙ্গে খলিল নামক এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন, যার জেরে তাদের মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রবাসে কষ্টের উপার্জিত অর্থ এবং স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
এনামুলের দাবি, টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ার একপর্যায়ে তাকে আসল স্বর্ণের পরিবর্তে নকল বা সিটি গোল্ডের কিছু অলংকার বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেগুলো স্থানীয় স্বর্ণের দোকানে নিয়ে গেলে সেগুলো নকল বলে প্রমাণিত হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ নিয়ে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় তার শ্বশুর ও শ্যালক তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আইনি আশ্রয়ের পথ বেছে নেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে অভিযুক্ত তানজিলা বেগম তার বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে তানজিলার সঙ্গে কথিত সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে খলিল জানিয়েছেন, এনামুল যে অভিযোগ করেছেন তার পক্ষে তাকে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। তবে খলিলের সাবেক স্ত্রী দাবি করেছেন, দাম্পত্য জীবনে খলিল তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে তার নিয়মিত সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাকে তালাক দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এছাড়া তানজিলাকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা থাকলেও এর কোনো স্বাধীন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাঃ আতিকুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।